ক’দিন ধরে বৃষ্টি যেন আর শেষ হয় না। শ্রাবণ মাস বলে কথা, আকাশটা মনে হয় ফুটো হয়ে গেছে। দিন নাই রাত নাই, বৃষ্টি হচ্ছে তো হচ্ছেই।
চড়ুইকোল গ্রামের পাশ দিয়ে চলে গেছে কুমার নদ। পাশ দিয়ে বের হয়ে গ্রামের মাঝ দিয়ে চলে গেছে ছোট একটা বিল। তবে বিলটা আসলে ছোট থাকে শুকনোর সময়। দূর থেকে দেখলে মনে হয়, মাঠের মাঝ দিয়ে কালো রঙের লম্বা একটা লাইন চলে গেছে। কাছে গেলে বোঝা যায়, ওটা আসলে চড়ুইবিল। বর্ষাকালে বিলের চেহারা পুরোপুরি পালটে যায়। বৃষ্টির পানি দু’কূল ছাপিয়ে এক হাওরের মতো হয়ে যায়। তখন শুরু হয় গ্রামের মানুষজনের মাছ ধরার প্রতিযোগিতা। বড় বড় রুই, কাতল, বোয়াল ধরা পড়ে খ্যাপা জালে। অনেকে আবার সারারাত জেগে বড়শি দিয়েও মাছ ধরে।
গল্পটা মুবারককে নিয়ে, বয়স ২৪–২৫ হবে। তার বাবা জন্মের পর “মুবারক” নাম রাখলেও মানুষজন তাকে মুবারেক নামেই ডাকে। চড়ুইকোলের পশ্চিমপাড়ায় বাড়ি ওর। পূবপাড়ায় স্কুল থাকলেও ক্লাস ফাইভের পরে মুবারেক আর স্কুলে যায়নি – ভাল লাগে না, তাই। বাপের ফসলি জমিতে কাজ করে। আর সাথে সারাদিন ধরে বিড়ি টানে, নেশাখোরের মতো। তবে বর্ষা এলে সাথে আরেক নেশা যোগ হয় – সারারাত বিলে মাছ ধরা, তাও আবার বড়শি দিয়ে। ভোররাত পর্যন্ত বিলের পাড়ে বসে মাছ ধরে, আর মাঝে মাঝে মালেক মাঝির নৌকা পেলে তো কথাই নেই, সেদিন নৌকা নিয়ে বিলের মাঝে যায় মাছ ধরতে।
শুক্রবার রাতের কথা। মুবারেক রাতে খাওয়া–দাওয়া করে চার ব্যাটারির টর্চ, ছাতা আর বড়শি নিয়ে বাড়ি থেকে বের হয়েছে মাছ ধরতে যাওয়ার জন্যে। বিল গ্রামের পূর্বদিকে, ওর বাড়ি থেকে ১০–১৫ মিনিটের হাঁটা পথ। টিপটিপ করে বৃষ্টি পড়ছে; মুবারেকের এক হাতে ছাতা, আরেক হাতে টর্চ জ্বালাচ্ছে, বগলে বড়শি। মাটির রাস্তা, গত কদিনের বৃষ্টিতে নিচু জায়গাগুলোতে হাবড়া (প্যাঁক-কাদা) হয়ে গেছে; জোর পায়ে হাঁটা যাচ্ছে না। ১০ মিনিটের পথ হেঁটে যেতে আধা ঘণ্টা লেগে যাবে মনে হচ্ছে। ওর ভয় হল, মালেক মাঝি আবার তার নৌকা বিলের ওইপাড়ে চড়পাড়া ঘাটে বেঁধে চলে যায় কিনা! যদিও মুবারেক সকালে মালেক মাঝিকে বলে এসেছিল যে, আজকে মাঝির নৌকা নিয়ে যাবে মাছ ধরতে। মালেক মাঝির বাড়ি ওদের বাড়ির পাশেই, পশ্চিমপাড়ায়; আর বিয়ে করেছে পাশের চড়পাড়া গ্রামে, বিলের ওইপাড়ে। কয়দিন আগে মালেক মাঝির বউ বাপের বাড়িতে গেছে, তাই মাঝি মাঝে মাঝে নিজের বাড়িতেও আসে, আবার শ্বশুরবাড়িতেও যায়।
মুবারেক বিলের কাছাকাছি পৌঁছে নৌকাঘাটের দিকে টর্চের আলো ফেলতেই নৌকা দেখতে পেল। মনে মনে আল্লাহর কাছে শুকরিয়া আদায় করল। কিন্তু আশেপাশে মালেক মাঝি চোখে পড়ল না। মুবারেক কিছুক্ষণ ভাবল, কী করবে? মালেক মাঝির জন্যে কিছু সময় অপেক্ষা করতে পারে। কিন্তু মনে হয়, সে বাড়ি চলে গেছে, আর এই বৃষ্টিতে এদিকে আবার আসার সম্ভাবনা কমই। তবে, মালেক ভাই যদি বাড়িতে গিয়ে থাকে, তাহলে আসার পথে মুবারেকের সাথে দেখা হল না কেন? যাই হোক, মুবারেক মাথা থেকে এসব চিন্তা ঝেড়ে ফেলল, নৌকায় উঠবে বলে। নৌকাঘাটের চারপাশে আরেকবার টর্চ মারল – দেখে নিল সব ঠিক আছে কিনা। টর্চ বন্ধ করতে হবে এখন, তা না হলে অন্ধকারে চোখ সইবে না। সারারাত তো আর টর্চ জ্বালিয়ে রাখা সম্ভব না।
টর্চটা বন্ধ করতেই মুবারেকের মনে হল, ওর একটু দূরে কেউ একজন দাঁড়িয়ে আছে। মুবারেক একটা বিড়ি বের করে আগুন ধরানোর জন্যে মাথা নিচু করে ম্যাচ বের করল। আগুন ধরিয়ে মাথা তুলে বলল – কিডা, মালেক ভাই নাকি?
কিন্তু তাকিয়ে কাউকে চোখে পড়ল না। আরেকবার চারপাশে তাকাল, কাউকে দেখা গেল না। ততক্ষণে অন্ধকারে চোখ সয়ে গেছে। চোখের ভুল ভেবে মুবারেক আর এসব নিয়ে গুরুত্ব দিল না। ততক্ষণে বৃষ্টিও থেমে গেছে।
সব মিলিয়ে মুবারেকের আজকের রাতটাকে বেশ ভালো মনে হচ্ছে। সবকিছুই নিজের সুবিধামতো পাচ্ছে। নৌকা পাবে কিনা, বুঝতে পারছিল না, কিন্তু শেষ পর্যন্ত পেয়েছে। আবার সকাল থেকে একটানা বৃষ্টি পড়েই যাচ্ছিল, এখন আল্লাহর মেহেরবানিতে থেমে গেছে। আসার সময় ছাতা মাথায় দিয়ে হেঁটে এসেছে। মুবারেকের মনে ভয় ছিল, ছাতা মাথায় দিয়েই হয়তো আজকে মাছ ধরতে যাওয়া লাগবে। নৌকার ওপর ছাতা মাথায় বড়শি হাতে বসে থাকতে সমস্যা হয়; বড়শি টান দেওয়ার সময় হাতে জোর পাওয়া যায় না। বৃষ্টি থেমে যাওয়ায় আর সেই ভয়টাও চলে গেছে।
মুবারেক আর দেরি না করে জিনিসপত্র নিয়ে নৌকায় উঠে পড়ল। আজকে মাছ ধরার জন্যে লাল পিঁপড়ার ডিম এনেছে। সাথে কেঁচোও আছে। সেদিন পূবপাড়ার সুবল নাকি ৬-৭ কেজি ওজনের এক কাতল পেয়েছে। আজকে রাতের বেলা ওরকম বড় কিছু পেলে মন্দ হয় না। আর নৌকা নিয়ে মাছ মারার সুবিধা হল, বিলের মাঝে চলে যাওয়া যায়, আরও একটু গভীর পানির মাছ ধরার চেষ্টা করা যায়। নৌকার মাঝে জিনিসপত্র সব রেখে এসে লগিটা ধরল। ‘বিসমিল্লাহ’ বলে লগিতে ঠেলা দিয়ে নৌকা কোমরপানিতে নিয়ে লগি রেখে বৈঠা নিয়ে বসল। আস্তে আস্তে বৈঠা বাইতে বাইতে নৌকা এগোচ্ছে। আজকে মুবারেক ঠিক করেছে, বিলের মাঝ বরাবর গিয়ে মাছ ধরবে। আর আজ বিলের মাঝে আর কাউকে চোখেও পড়ছে না। সবাই হয়তো বৃষ্টির জন্যে বের হয়নি আজ রাতে।
বিলের মাঝবরাবর এসে মুবারেক নৌকা থামাল, বৈঠা তুলে পাটাতনের ওপর রেখে নৌকার মাঝে গিয়ে বসল। হারিকেন জ্বালিয়ে পাশে রেখে বড়শিতে টোপ লাগানোর কাজ শুরু করল। হালকা বৃষ্টিভেজা ঠান্ডা বাতাস বইছে আর আকাশে মেঘের ফাঁক থেকে চাঁদ থেমে থেমে উঁকি দিচ্ছে। সবকিছু ভালো যাচ্ছে; মুবারেক গুনগুন করে গান গাওয়া শুরু করল –
খাঁচার ভিতর অচিন পাখি
কেমনে আসে যায়?
ধরতে পারলে মনবেড়ি দিতাম
পাখির পায়।
মালেক মাঝির সাথে মাছ ধরতে গিয়ে তার গলায় গানটা শুনেছে বেশ কয়েকবার। এত ভাবের অর্থ না বুঝলেও গানটা মুবারেকের বেশ পছন্দের। মনবেড়ি সে নিজেও এক পাখির পায়ে বাঁধতে চায়। মালেক মাঝির শালী, ঝুমুরকে তার বেশ পছন্দ। মালেকের বউ, সুরমা ভাবির সাথে ভাব জমিয়েছে এই কারণে। ভাবি বাপের বাড়ি থাকলে তার হাতে চা খাওয়ার নাম করে মুবারেক ঝুমুরকে দেখতে যায়। তবে ঝুমুরকে কিছু বলতে পারেনি এখনো – নিজে খায় বাপের হোটেলে, তার ওপর কাজকর্ম তেমন কিছু করে না। যদিও মুবারেকের মা ইতিমধ্যে ছেলের জন্যে পাত্রী দেখা শুরু করেছে।
এসব ভেবে, গুনগুন করে গান গাইতে গাইতে মুবারেক বেশ কয়েকবার বড়শির টোপ ফেলেছে। একটু পর পর বিড়ি ধরাচ্ছে। ঘণ্টাখানেকের মাঝে বেশ কিছু মাছ পেয়ে গেল – বেশ কয়েকটা নউছি, টাকি, আর একটা কেজিখানেক সাইজের রুই। আনন্দে মুবারেকের মন তখন আরও ভালো। নাহ, আজকের দিনটা আসলেই ভালো। আরেকটা নউছি মাছ বড়শি থেকে ছাড়িয়ে মাছের ঝুড়িতে রেখে আবার টোপ দিয়ে বসল। ওর মন বলছে, আজকে সে আরও বড় কিছু একটা পাবে। একটু পরে আরেকটা নউছি বাঁধল বড়শিতে। ওটা ঝুড়িতে রেখে কী মনে করে একটু টর্চ মারল ঝুড়ির ভেতরে।
চমকে উঠল। মাত্র একটা নউছি আর দুটো টাকি পড়ে আছে ঝুড়িতে; আর কিছু নেই। আনন্দের ভাবটা মুহূর্তে কেটে গেল। নৌকার পাটাতনে দাঁড়িয়ে চারপাশে টর্চ মারল। কোথাও কাউকে দেখা যাচ্ছে না। অনেক দূরে আরেকটা নৌকা দেখা যাচ্ছে, মনে হয় ওর মতো মাছ ধরছে। কিন্তু ও তাহলে এত মাছ মারল, সেই মাছ গেল কোথায়? আশপাশে তো কাউকে দেখা যায় না। চিৎকার করে উঠল – এই, কোন হারামির বাচ্চা রে, আমার মাছ চুরি করছিস? কই লুকায়ে আছিস? বের হ। বের হ কইলাম! – এই বলে বৈঠা দিয়ে আশপাশের পানিতে বাড়ি মারতে লাগল। পানিতে একটু ঢেউ উঠে নৌকা নড়ে উঠল, আর কোনো সাড়াশব্দ পাওয়া গেল না। মুবারেক নৌকায় বসে আরেকটা বিড়ি ধরাল, মাথা ঠান্ডা করা দরকার।
কিছুক্ষণ চুপচাপ বসে থেকে মুবারেক হাতেনাতে চোর ধরার জন্যে একটা বুদ্ধি বের করল। মাছের ঝুড়িটা নিয়ে ওর পাশে রেখে আবার বড়শি নিয়ে বসল।
বেশ কিছুক্ষণ বসে আছে, এবার আর কোনো মাছই টোপ গিলছে না। বৈঠার বাড়ির শব্দে হয়তো সব মাছ একটু দূরে চলে গেছে। অনেকক্ষণ বসে থেকে একটু ঝিমুনিও চলে এসেছে। এই সময় হাতে ধরা বড়শিটা একটু নড়ে উঠল – মাছ ঠোকর দিয়েছে। মুবারেকের ঝিমুনি ছুটে গেল; ব্যস্ত হয়ে পড়ল মাছ ধরার কাজে। একটু পরে ৭–৮ কেজি ওজনের এক বিশাল কাতল মাছ নৌকায় তুলে রাখল। ঝুড়িতে এত বড় মাছ রাখার জায়গা নেই। মুবারেক বুদ্ধি করে মাছের মাথা–কানকোতে দড়ি দিয়ে বেঁধে ফেলল, সাথে দড়ির আরেক মাথা বেঁধে রাখল নৌকার পাটাতনের বাঁশের সাথে। আল্লাহর দরবারে শুকরিয়া জানাল। আজকের সারাদিনের কষ্ট, একটু আগে মাছ হারানোর রাগ – সব চলে গেল এই এক মাছ দেখে।
মাছটাকে পাশে রেখে আবার বড়শি নিয়ে বসল। আরেক পাশে টর্চটা রেখে দিল। চার ব্যাটারির টর্চ, কায়দা করে কাউকে মারতে পারলে দারুণ একটা অস্ত্র। মাছটাকে পাহারা দিয়ে রাখতে হবে, যেন এটা কোনোভাবে হাতছাড়া না হয়। বড়শি নিয়ে বসে থাকতে থাকতে আবার একটু ঝিমুনির মতো এল। হঠাৎ মনে হল, নৌকাটা খুব হালকা ভাবে দুলে উঠল, যেন কেউ খুব আলতো করে নৌকাকে ধাক্কা দিল। মুবারেকের ঝিমুনি কেটে গেল, কিন্তু সে চুপ করেই বসে রইল। এটাই মাছ–চোর ধরার সবচেয়ে মোক্ষম উপায়, কেউ একজন আছে আশেপাশে; মুবারেক অপেক্ষায় রইল হাতেনাতে ধরবে।
এবার মনে হল, কেউ একজন বড় মাছটা ধরে টান দিল। বড় মাছ, একটু শব্দ তো হবেই। মুবারেক ঠিক করল, ঘাড় না ঘুরিয়ে মাছের লেজের দিকে হাত বাড়িয়ে চোরের হাত ধরার চেষ্টা করবে, যেন চোর যেই হোক, তার হাত ধরতে পারে। খপ করে হাতটা বাড়াল ওভাবে।
একজনের হাত ধরতে পারল। মুখে বলল – হারামীর বাচ্চা, ধরছি তোরে এইবার – বলে যেই কিনা ঘাড় ঘুরাতে যাবে, কেউ একজন ঘ্যাঁসঘ্যাঁসে গলায় ধমক দিয়ে উঠল – এই মুবারেক, পিছনে তাকাবি না; জানে মেরে ফেলব।
গলা শুনে মুবারেক চমকে উঠল – এরকম শব্দ কোন মানুষ করতে পারে না, কারো গলা এমন হতে পারে না। আর ততক্ষণে সে বুঝতে পারছে, যেই হাতটা ‘চোর’ মনে করে ধরেছে, সেটা বরফের মতো ঠান্ডা আর পিছলা শ্যাওলার মতো, যেন পুরা হাতে শ্যাওলা মেখে আছে। মুবারেক কী করবে বুঝতে পারছে না, কিন্তু হাতও ছাড়ছে না। ওই ঘ্যাঁসঘ্যাঁসে গলা আবার বলে উঠল – মুবারেক, বেঁচে ফিরতে চাইলে হাত ছেড়ে দে এখনই। আমার এলাকায় মাছ ধরতে আসছিস, এই মাছ আমার।
মাছের কথা শুনে মুবারেকের মাথায় আগুন ধরে গেল। এত কষ্ট করে মাছ ধরেছে – আরেকজন নিয়ে যাবে, এটা হবে না, তা সে যেই হোক! সে ডান হাতে টর্চটা নিল, তারপর অনেক দ্রুততার সাথে পেছনে ফিরে চোর বা ঐ জিনিসটার গায়ে মারার চেষ্টা করল। কিছু একটাতে ও আঘাত করল নিশ্চিত, কিন্তু কাকে মারল – সেটা ঠিক বুঝতে পারল না।
ততক্ষণে মুবারেক ওই ঘ্যাঁসঘ্যাঁসে গলার ‘লোকটার’ দিকে ঘুরে তাকিয়েছে। দেখে মনে হল, কেউ একজন শ্যাওলা গায়ে দিয়ে দাঁড়িয়ে আছে, আর টর্চের বাড়ি খেয়ে একটু ডানদিকে বেকে গেছে। টর্চটা মুবারেকের হাতেই ছিল। কী মনে করে, শ্যাওলা-গায়ে লোকটার দিকে টর্চ দিয়ে আলো ফেলল। বুঝল, কাজটা তার ঠিক হয়নি। যা দেখল, তাতে তার গায়ের রক্ত ঠান্ডা হয়ে গেল, হাত-পা ওখানেই জমে গেল।
ওর সামনে নৌকার পাশে মানুষের মতো কিছু একটা দাঁড়িয়ে আছে, কিন্তু এটা মানুষ না, হতেই পারে না। আলো পড়তেই জিনিসটা মুবারেকের দিকে তাকাল। শ্যাওলা দিয়ে জিনিসটা বহু কষ্টে মানুষের চেহারা ধরে রেখেছে। পুরো ‘চেহারার’ মাঝে ২–৩টা চোখ নড়ে বেড়াচ্ছে, যেন কোথায় থাকা উচিত বুঝতে পারছে না; সম্ভবত টর্চের বাড়িতে এই অবস্থা হয়েছে। জিনিসটার কোনো নির্দিষ্ট মুখ নেই; একটু পর পর চেহারার একেকটা জায়গায় কিছু গর্ত দেখা যায়, যার ভেতরে দাঁত আছে, মনে হচ্ছে।
মুবারেক সাহসী ছেলে, কিন্তু এমন কিছু দেখে ভয়ে তার শরীর কাঁপতে লাগল। জ্ঞান হারানোর আগে তার শুধু মনে আছে – জিনিসটা নৌকার ওপর উঠে আসছে, আর ঠান্ডা হাতের মতো কিছু একটা দিয়ে তাকে জড়িয়ে ধরার চেষ্টা করছে। অজ্ঞান হওয়ার আগে অনেক কষ্টে একটা চিৎকার দিল; তারপর আর কিছু মনে নেই।
মুবারেককে প্রায় আধা ঘণ্টা পরে আরেকটা নৌকা এসে উদ্ধার করে, ওরাও বিলে মাছ ধরছিল। তারা এসে দেখে, মুবারেক অজ্ঞান হয়ে পড়ে আছে; সারা শরীর শ্যাওলায় ঢাকা আর মৃগীরোগীর মতো কাঁপছে। একদিন পরে মুবারেকের জ্ঞান ফেরে। কয়েক দিন পরে ওই আরেক নৌকার লোকদের কাছ থেকে জানতে পারে – তার নৌকায় কোনো মাছের চিহ্ন তারা পায়নি, আর পুরো নৌকা মাছের আঁশটে গন্ধে ভরা ছিল। তবে, ওরা নৌকাতে বা নৌকার আশেপাশে ঐদিন আর কাউকে দেখে নাই, কিংবা আর কাউকে মাছ ধরতেও দেখ নাই।
তাহলে, মুবারেক ঐদিন কাকে দেখলো? কি ছিল ঐ জিনিসটা?
*** সমাপ্ত ***
গল্পটি পড়ার জন্য ধন্যবাদ! আপনার ভালো লাগা, কিংবা সমালোচনা নিচে মন্তব্য করে শেয়ার করুন। ভবিষ্যতে নতুন গল্পের নোটিফিকেশন পেতে আমার ব্লগে সাবস্ক্রাইব করে রাখুন।